Home সব কিছু করোনার নমুনা পরীক্ষায় জালিয়াতির অভিযোগে সাবরিনাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর

করোনার নমুনা পরীক্ষায় জালিয়াতির অভিযোগে সাবরিনাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর

207
0

নিজস্ব সংবাদদাতা :জেকেজির চেয়ারম্যান সাবরিনা আরিফ চৌধুরীকে রোববার গ্রেপ্তার করে পুলিশ।আলোচিত জেকেজি হেলথ কেয়ারের চেয়ারম্যান চিকিৎসক সাবরিনা আরিফ চৌধুরীকে জিজ্ঞাসাবাদে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত আজ সোমবার দুপুরের দিকে এই রিমান্ডের আদেশ দেন। সিএমএম আদালতের হাজতখানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এসআই শহীদুল ইসলাম প্রথম আলোকে জানান, সাবরিনাকে আদালতে হাজির করে ৪ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানায় পুলিশ। শুনানি শেষে আদালত তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদে ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

করোনার নমুনা পরীক্ষার জালিয়াতির অভিযোগে সাবরিনাকে গতকাল রোববার গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

জোবেদা খাতুন হেলথ কেয়ার, সংক্ষেপে জেকেজি কাজ শুরু করেছিল ২০১৫ সালে। ওই বছরই চিকিৎসক সাবরিনা শারমিন হুসেইনকে বিয়ের পর ব্যবসায়ী আরিফুল হক চৌধুরী তাঁর দাদির নামে এই ‘অলাভজনক’ প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলেছিলেন।

ওভাল গ্রুপ লিমিটেডের একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান জেকেজি। এটি একটি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট ফার্ম। প্রতিষ্ঠানের প্রধান আরিফুল হক চৌধুরী হলেও চেয়ারম্যান হিসেবে পরিচয় দিতেন সাবরিনা। স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন দিবসের কাজ পেয়ে আসছিল ওভাল। এমনকি গত অক্টোবরে ঢাকা এক্সপোর আয়োজন উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনেও ওভালের চেয়ারম্যান হিসেবে বক্তব্য দেন সাবরিনা।

জুনের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত দুজন মিলেই জেকেজি চালাচ্ছিলেন। কিন্তু দাম্পত্য কলহের জেরে সাবরিনা শারমিন হুসেইন ওরফে সাবরিনা আরিফ চৌধুরীর জেকেজি থেকে সরে আসেন। ওই মাসের তৃতীয় সপ্তাহে পুলিশ জেকেজিতে অভিযান চালায়।

জানা যায়, বিনা মূল্যে পরীক্ষার অনুমতি নিয়ে জাল-জালিয়াতি করছিল জেকেজি। গ্রেপ্তার হন আরিফুল হক চৌধুরীসহ প্রতিষ্ঠানের আরও চারজন কর্মকর্তা-কর্মচারী। তখন থেকেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করে, প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান সাবরিনা আরিফ চৌধুরী কেন ধরাছোঁয়ার বাইরে?

আর সেই সময় সাবরিনাও পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, তিনি সরকারি কাজের অবসরে প্রতিষ্ঠানটিতে স্বেচ্ছাশ্রম দিয়েছেন।

ফলে স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন ওঠে, এই জালিয়াতির দায় আসলে কার?

ডিএমপির উপকমিশনার হারুন অর রশিদ জানিয়েছেন, এর আগে করোনাভাইরাস পরীক্ষার নামে জালিয়াতির অভিযোগে জেকেজির যেসব সদস্য গ্রেপ্তার হয়েছেন তাঁরা জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন, সাবরিনাই এই প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান। কাজেই প্রতিষ্ঠানের জাল জালিয়াতির দায় তিনি এড়াতে পারেন না।

প্রায় একই ভাষ্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের। এক বিজ্ঞপ্তিতে মন্ত্রণালয় জানায়, জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের চিকিৎসক সাবরিনা আরিফ চৌধুরীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। সরকারি চাকরি করে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকা এবং অর্থ আত্মসাতের মতো শাস্তিযোগ্য অপরাধে অভিযুক্ত হওয়ায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তাঁকে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেয়।

জেকেজি হেলথ কেয়ারের চেয়ারম্যান চিকিৎসক সাবরিনা আরিফ চৌধুরীর ব্যাংক হিসাব জব্দ করেছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল (সিআইসি)। ব্যাংক হিসাব জব্দ করার তালিকায় সাবরিনার স্বামী জেকেজির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুল হক চৌধুরীও আছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here