Home বাংলাদেশ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী

সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী

153
0

 

নিজস্ব প্রতিবেদক:   জাতীয় শোক দিবসের নাম করে যশোরের বিরামপুর এলাকায় বেপরোয়া চাঁদাবাজি অব্যাহত রেখেছে কুখ্যাত সন্ত্রাসী বাহিনী প্রধান কেরামত ও তার বাহিনীর সদস্যরা। একই সাথে তার বাহিনীর অন্য সদস্যদের দিয়ে করানো হচ্ছে রমরমা মাদক ও অস্ত্রের কারবার। তাদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ এলাকার ব্যবসায়ী ও চাকরিজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেছেন। বোমাবাজি ও মাদকসহ তার বিরুদ্ধে রয়েছে অর্ধডজন মামলা।
বিরামপুর এলাকাবাসী জানিয়েছে, চিহ্নিত সন্ত্রাসী বাহিনী প্রধান কেরামত দীর্ঘদিন এলাকা ছেড়ে পালিয়ে থাকার পর কিছুদিন আগে এলাকায় ফিরেছে। যশোর সদর আসনের এমপি কাজী নাবিল আহম্মেদ ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলনের সেল্টারে কেরামত এলাকায় ফিরেছে বলে অভিযোগ। এরপর আবারো শুরু করেছে চাঁদাবাজি, অস্ত্র ও মাদকের কারবার।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কেরামতের পক্ষে সাগর ওরফে ভাগ্নে সাগর গোটা এলাকা চষে বেড়াচ্ছে। লোকজনের কাছে গিয়ে মামা (কেরামত) পাঠিয়েছেন বলে টাকা দাবি করছে। অনেক সময় মামা কেরামতকে মোবাইল ফোনে ভুক্তভোগীদের ধরিয়ে দেয়া হয়। ভাগ্নে সাগরের সাথে ওই সকল অপকর্মে সক্রিয়ভাবে অংশ নেয় শহরের ঘোপ এলাকার আজাদ, শহরতলীর বিরামপুরের সাইদুর রহমান, সঞ্জিত কুমার, হাফিজুর রহমান, মুন্নুা, নিন, তুহিন হোসেন, মিলন ওরফে বালি মিলন, লুৎফর রহমান, তপু হোসেন, ইকরাম হোসেন, রাশেদ হোসেন, ছানি, পিকুল হোসেনসহ আরো অনেকে। সম্প্রতি জাতীয় শোক দিবসের নাম করে এলাকায় ব্যাপকভাবে চাঁদাবাজি করছে বলে ভুক্তভোগী অনেকেই অভিযোগ করেছেন। তবে তারা কেরামতের ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেনা।
এদিকে, গত ৩ জুলাই যশোর শহরতলীর বিরামপুরে অবৈধ সাইকেল ও রিক্সার হাট পরিচালনার অভিযোগে ভাগ্নে সাগরসহ দুজনকে আটকও করেছিল উপশহর ক্যাম্পের পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে অবৈধভাবে খাজনা আদায়ের রশিদও উদ্ধার করা হয়েছিল। তারা অবৈধভাবে ওই হাট থেকে খাজনা আদায় করে। সেখানে কোন রিক্সা অথবা বাইসাইকেল বিকিকিনি হলেই অবৈধ হাট পরিচালনাকারীরা রশিদও দিয়ে খাজনা আদায় করে থাকে। আটক দুইজন হলো, বিরামপুরের আব্দুল মান্নানের ছেলে ভাগ্নে সাগর এবং স্থানীয় নারী ইউপি সদস্য মুক্তা বেগমের ভাই রাহাত হোসেন। চাঁদাবাজি ছাড়াও কেরামত বাহিনীর অনেক সদস্য মাদক কারবারের সাথেও জড়িত। যশোর শহরতলীর বিরামপুরের সন্ত্রাসী বাহিনী প্রধান কেরামত আলী ১৯৯৭-৯৮ সালে এলাকায় সন্ত্রাসের রামরাজত্ব কায়েম করে। অস্ত্রের কারবার, বোমাবাজি ও মাদকের কারবার ছিল তার বাহিনীর। একটি বোমাবাজি মামলায় কেরামতকে ৮ বছরের কারাদ- দেয় আদালত। আর সেই কারণে পুলিশি গ্রেপ্তার আতংকে কেরামত এলাকা ছেড়ে ঢাকায় পালিয়ে ছিল দীর্ঘদিন। কেরামত বাহিনীর সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজিসহ নানা ধরনের অত্যাচারের হাত থেকে রেহাই পেতে স্থানীয়রা প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এব্যাপারে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান বলেছেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে সত্যতা পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here